ঢাকা ০৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জনদুর্ভোগ এড়াতে কালভার্টের দাবি বরগুনার ছোট তালতলী গ্রামবাসীর কালিয়াকৈরে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ কুমিল্লায় ৭৫ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি ও পোশাক জব্দ করেছে বিজিবি হ্যারি কেইনকে ডিফেন্সে নামানো ভুল ছিল, টুখেলের সমালোচনায় ট্রাম্প আত্রাইয়ে প্রকাশ্যে মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই যুবকের কারাদণ্ড  কালীগঞ্জে সতি নদী থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার পরীক্ষা কক্ষে নকলের মহোৎসব! ভিডিও ভাইরাল সাদুল্লাপুরে  কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু ১০৪তম আন্তর্জাতিক সমবায় দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে আলোচনা সভা ও চারাগাছ বিতরণ বেরোবির ওয়েবসাইটে মিলছে না শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য, বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

বদরগঞ্জে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ৩ পুলিশ ক্লোজড, ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

দৈনিক আমার দেশের বদরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এমএ সালাম বিশ্বাসকে মারধরের ঘটনায় ৩ পুলিশকে ক্লোজড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বদরগঞ্জ থানার ওসি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসহ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম। ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, রংপুরের বদরগঞ্জ থানার এএসআই রবিউল আলম (AB-৩২১), কনস্টেবল আলামিন হোসেন (নং 994) ও মজিবুর রহমান (নং ৬৩০)।

এর আগে বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে বদরগঞ্জ থানার মূল ফটক থেকে ১০০ গজ দূরে থানার ভেতর থেকে পুলিশের একটি পিকআপ এসে থামে। পিকআপ ভ্যানের ভেতরে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিজেরা বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এ দৃশ্য দেখে দৈনিক আমার দেশের বদরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এমএ সালাম বিশ্বাস তার মুঠোফোনে পুলিশ সদস্য বাগ্বিতণ্ডায় ওই দৃশ্য ভিডিও ধারন করেন। এসময় কনস্টেবল আল আমিন ভিডিও ধারন করতে নিষেধ করলে । একপর্যায়ে সালাম বিশ্বাসের সাথে পুলিশ সদস্যদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা সাংবাদিক এমএ সালাম বিশ্বাসকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন চার জন পুলিশ সদস্য। এরপর পুলিশ সদস্য তাকে চ্যাংদোলা করে থানায় নিয়ে যান এবং ওসি আতিকুর রহমানের সামনে আবারও মারধর করেন। পরে বিষয়টি জানাযানি হলে,প্রেসক্লাব বদরগঞ্জ এর সভাপতি মোঃ ফেরদৌস আলী সহ ৭জন সাংবাদিক থানায় গিয়ে সাংবাদিক এমএ সালাম বিশ্বাসকে থানা থেকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দৈনিক আমার দেশে পত্রিকার বদরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি আবদুস সালাম বিশ্বাস বলেন, থানার ভেতর থেকে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান আমার সামনে এসে দাড়ায়। পুলিশের পিকআপ ভ্যানের ভেতরে কয়েক জন পুলিশ সদস্য বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এ দৃশ্য দেখে আমি আমার মুঠোফোনে ভিডিও ধারন করছি। তখন কনস্টেবল আল আমিন আমাকে ভিডিও করতে নিষেধ করে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্য আল আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে থাকেন, ভিডিও বন্ধ না করলে আপনাকে পিটাব। একথা বলে কনস্টেবল আল আমিন আমার মুঠোফোনটি থাবা দিয়ে কেড়ে নেয়। আমি মুঠোফোন চাইলে তখন আল আমিনসহ পিকআপ ভ্যানে থাকা আরো কয়েক জন পুলিশ সদস্য নেমে এসে আমার শার্টের কলার ধরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে কিলঘুষি মারেন তারা। এরপর ওই পুলিশ সদস্যরা আমাকে চেংদোলা করে থানার ভেতরে নিয়ে যান। সেখানেও আবার মারধর করে।

এ ঘটনায় ফুঁসে ওঠে বদরগঞ্জ সহ রংপুরের সাংবাদিক সমাজ। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত ওসিসহ পুলিশ সদস্যের বিচারের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরপরেই রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম এ ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বদরগঞ্জ থানার ওসি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসহ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জনদুর্ভোগ এড়াতে কালভার্টের দাবি বরগুনার ছোট তালতলী গ্রামবাসীর

বদরগঞ্জে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় ৩ পুলিশ ক্লোজড, ওসির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট সময় ১০:০২:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

দৈনিক আমার দেশের বদরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এমএ সালাম বিশ্বাসকে মারধরের ঘটনায় ৩ পুলিশকে ক্লোজড করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বদরগঞ্জ থানার ওসি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসহ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম। ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন, রংপুরের বদরগঞ্জ থানার এএসআই রবিউল আলম (AB-৩২১), কনস্টেবল আলামিন হোসেন (নং 994) ও মজিবুর রহমান (নং ৬৩০)।

এর আগে বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে বদরগঞ্জ থানার মূল ফটক থেকে ১০০ গজ দূরে থানার ভেতর থেকে পুলিশের একটি পিকআপ এসে থামে। পিকআপ ভ্যানের ভেতরে থাকা কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিজেরা বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এ দৃশ্য দেখে দৈনিক আমার দেশের বদরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এমএ সালাম বিশ্বাস তার মুঠোফোনে পুলিশ সদস্য বাগ্বিতণ্ডায় ওই দৃশ্য ভিডিও ধারন করেন। এসময় কনস্টেবল আল আমিন ভিডিও ধারন করতে নিষেধ করলে । একপর্যায়ে সালাম বিশ্বাসের সাথে পুলিশ সদস্যদের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা সাংবাদিক এমএ সালাম বিশ্বাসকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন চার জন পুলিশ সদস্য। এরপর পুলিশ সদস্য তাকে চ্যাংদোলা করে থানায় নিয়ে যান এবং ওসি আতিকুর রহমানের সামনে আবারও মারধর করেন। পরে বিষয়টি জানাযানি হলে,প্রেসক্লাব বদরগঞ্জ এর সভাপতি মোঃ ফেরদৌস আলী সহ ৭জন সাংবাদিক থানায় গিয়ে সাংবাদিক এমএ সালাম বিশ্বাসকে থানা থেকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

দৈনিক আমার দেশে পত্রিকার বদরগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি আবদুস সালাম বিশ্বাস বলেন, থানার ভেতর থেকে পুলিশের একটি পিকআপ ভ্যান আমার সামনে এসে দাড়ায়। পুলিশের পিকআপ ভ্যানের ভেতরে কয়েক জন পুলিশ সদস্য বাগ্বিতণ্ডায় লিপ্ত হন। এ দৃশ্য দেখে আমি আমার মুঠোফোনে ভিডিও ধারন করছি। তখন কনস্টেবল আল আমিন আমাকে ভিডিও করতে নিষেধ করে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্য আল আমিন ক্ষিপ্ত হয়ে বলতে থাকেন, ভিডিও বন্ধ না করলে আপনাকে পিটাব। একথা বলে কনস্টেবল আল আমিন আমার মুঠোফোনটি থাবা দিয়ে কেড়ে নেয়। আমি মুঠোফোন চাইলে তখন আল আমিনসহ পিকআপ ভ্যানে থাকা আরো কয়েক জন পুলিশ সদস্য নেমে এসে আমার শার্টের কলার ধরে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে কিলঘুষি মারেন তারা। এরপর ওই পুলিশ সদস্যরা আমাকে চেংদোলা করে থানার ভেতরে নিয়ে যান। সেখানেও আবার মারধর করে।

এ ঘটনায় ফুঁসে ওঠে বদরগঞ্জ সহ রংপুরের সাংবাদিক সমাজ। সেই সঙ্গে অভিযুক্ত ওসিসহ পুলিশ সদস্যের বিচারের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এরপরেই রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম এ ঘটনায় ৩ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বদরগঞ্জ থানার ওসি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগসহ ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।