রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৫ উদযাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলা ভাষার জন্য আত্মোৎসর্গকারী ভাষা-শহিদদের স্মরণে শোক র্যালির আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী র্যালির উদ্বোধন করেন।
শোক র্যালিটি প্রশাসনিক ভবনের দক্ষিণ গেট থেকে শুরু হয়ে পার্কের মোড় (আবু সাঈদ চত্বর) ঘুরে ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহিদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শহিদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এসময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, আবাসিক হল, ইনস্টিটিউট এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিকেলে স্বাধীনতা স্মারক মাঠে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। তিনি বলেন, “ভাষা আন্দোলনের অনেক ইতিহাস আজও চাপা পড়ে আছে। ২৪-এর বিপ্লব আমাদের নতুন করে কথা বলার স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। আমাদের দায়িত্ব হলো সেই চাপা পড়া ইতিহাসকে সামনে নিয়ে আসা।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল লতিফ মাছুম। তিনি বলেন, “নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত এই স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা।”
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা আমাদের সব সময় শক্তি ও প্রেরণা জুগিয়েছে। ২৪-এর বিপ্লব সেই চেতনাকে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত করেছে।”
এর আগে একুশের প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং সবাই কালোব্যাজ ধারণ করেন। বিকেলে কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করে। বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে একুশের চেতনায় উদ্দীপিত ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ।
মাসফিকুল হাসান, বেরোবি প্রতিনিধি; 






















