বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক শুচিতা শরমিনের দায়ের করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, প্রত্যাহার না করলে সড়ক অবরোধসহ কঠিন কর্মসূচী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
আজ ( মঙ্গলবার ১৯ ফেব্রুয়ারি,২০২৫) দুপুর ২ টায় ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এক উন্মুক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি হুবুহু নিম্নে উল্লেখ করা হলো :
“উন্মুক্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১৯/০২/২০২৫
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় সাংবাদিকবৃন্দ,
গত ছয়দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে চলমান যৌক্তিক আন্দোলনে প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা তাদের স্বৈরাচারী ও অগণতান্ত্রিক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তারা এর মাধ্যমে প্রমাণ করেছে শিক্ষার্থীদের সামনে আসার নৈতিক সৎসাহস তারা হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে প্রহসনের মিথ্যা মামলা এখনও পর্যন্ত প্রত্যাহার না করে স্পষ্ট প্রমান করেছে এরা বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাসী না।একের পর এক অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের ভিতরে যে দুরত্ব তৈরি হয়েছে।সেটা আগামী দিনে যেকোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর দ্বায়ভার সম্পূর্ণ প্রশাসনকে নিতে হবে।প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়েও উনি দায়িত্বে অবহেলা করে যাচ্ছেন।এজন্য একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি তার দায়িত্বে থাকার নৈতিক যোগ্যতা হারিয়েছেন।
আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন স্বৈরতন্ত্র চলবেনা।আমাদের অধিকারের ব্যাপারে আমরা আপোষহীন। শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি ক্লাসরুম,আবাসন,পরিবহন সংকট সহ ২২ দফা অতিদ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন সিদ্ধান্তে লুকোচুরি করা যাবেনা।আমাদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া দায়িত্বে কেউ অবহেলা করলে অথবা স্বৈরাচার হওয়া মনোবাসনা জাগলে আমরা সচেতন শিক্ষার্থীরা আপনাদের দাঁতভাঙা জবাব দিবো।হামলা,মামলার মতো স্বৈরাচারী কাজকারবার পরিহার করে শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন হওয়ার জোর আহ্বান জানাচ্ছি।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন বলেন, “যদি অতিদ্রুত মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারসহ আমাদের নায্য দাবি মানা না হয় তাহলে আমরা কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হব। আমরা সকলে সম্মত হয়েই এই প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি”
আন্দোলনকারী আরেক শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন “ভিসির এরকম স্বৈরাচারী মনোবৃত্তি আমাদের শিক্ষার্থীদের আশাহত করেছে। বাস্তবতা স্বীকার করে উনার উচিত অতিদ্রুত সকল দাবি মেনে নিয়ে আমাদের পড়ার টেবিলে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করা। অবিলম্বে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। না হলে আমরা কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।”
সবিশেষ,উপাচার্যের দায়ের করা যড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার না করলে সড়ক অবরোধ সহ কঠিন কর্মসূচি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত আমরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিয়েছি।
চিঠির পক্ষে –
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীবৃন্দ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়
উল্লেখ্য গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ববি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে উপাচার্যের গেট ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ববি উপাচার্যের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
আব্দুল্লাহ আল মামুন, ববি প্রতিনিধি 






















