শিবির করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চুক্তিভিত্তিক এক কর্মচারীকে রাতে ছাত্রদলের মারধরের পর নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে চাকরিচ্যুত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী কর্মচারীর নাম মো. সাকিব খান তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন।
গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭:৩০ দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন আনন্দ বাজার এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল হাসান তৌফিক ও মাহমুদুল ইমরানসহ ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী তুলে নিয়ে তাকে মারধর করে। ঐ ঘটনার পর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অফিস সহায়ক হাসানুজ্জামান তাকে মোবাইল করে নিরাপত্তাজনিত কারনে কর্মস্থলে আসতে নিষেধ করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীর এইচএসসি পরীক্ষার কারনে ছুটিতে থাকায় তার স্থলে সাকিব খানকে গত জুলাই মাসের ৫ তারিখে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক নিয়োগ করা হয়। আগস্টের ১৫ তারিখে পরীক্ষা শেষ হলে আগের কর্মচারী কর্মস্থলে ফিরলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু শিবির করায় নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে আগস্টের ৫ তারিখে কর্মস্থলে আসতে না করে দেয়া হয়েছে।
এর আগে ঐ কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত কাজ করেছেন।
ছাত্রদলের মারধর ও শিবির করার অভিযোগে চাকরিচ্যুতির বিষয়ে মো. সাকিব খানের কাছে জানতে চাইলে বলেন, আমি গতকাল রাত ৯টার দিকে আনন্দ বাজারে চা খেতে গেলে ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক আল হাসান তৌফিক ও মাহমুদ ইমরান শিবির করি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের প্রোগ্রামে লোকবল দিয়েছি বলে আমাকে তুলে নিয়ে মারধর করে। ছাত্রদলের মোশাররফ ভাই এসে আমার ব্যক্তিগত ফোন চেক করে এসময়ও তারা আমাকে মারধর করে। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে প্রক্টরকে কল দেয় অভিযোগ জানায় তিনি আমাকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছেন। এই ঘটনার পর আমাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকর্মী হাসানুজ্জামান কল দিয়ে নিরাপত্তা জনিত কারনে কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করেন।
এ বিষয়ে বরিশাল ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসাইন বলেন, “ওই ঘটনার সময় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর গেটে অবস্থান করছিলাম। তখন জানতে পারি সেখানে ঝামেলা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে গিশে জেনেছি, ওই ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্টাফ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। পরে তিনি নিজেও স্বীকার করেন যে, তিনি কিছু গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত। মারধরের কোনো ঘটনা আমি দেখিনি এবং এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক সুষ্মিতা রায় বলেন, তার সাথে আমাদের একমাসের একটি চুক্তি হয়েছিলো, অর্থাৎ সে আর একজনের পরিবর্তে ১ মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছিলেন কিন্তু গতকাল তার শেষ দিন ছিলো তাই তার যেহেতু মেয়াদ শেষ তাই তাকে কাজে আসতে বারন করা হয়েছিলো।কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গতকাল তার শেষ দিন ছিলো মেয়াদের এবং গতকালই তার সাথে এরকম একটা ঘটনা ঘটে। কিন্তু ২ টি ঘটনার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।
এ বিষয়ে জানার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে একাধিকবার কল করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
আব্দুল্লাহ আল মামুন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় 



















