সংবাদ শিরোনাম ::
মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র অ্যাভিয়েশন খাতে বিনিয়োগের আগ্রহ ব্রিটিশ সরকারের ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করলো আমিরাত বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ বর্তমান সংসদের কোনো সদস্য ঋণখেলাপি নন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ নীলফামারীতে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত, সম্মাননা দেয়া হলো তিনটি স্কুলকে আত্রাইয়ে ৫০ জাতের দেশীয় ফলের প্রদর্শনী নিয়ে ব্যতিক্রমী ফল উৎসব অনুষ্ঠিত নি’হ’ত নন্দিনীর বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছুটে গেলেন ত্রাণমন্ত্রী ঝালকাঠি পৌর প্রশাসক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী খেলায় ৯নং ওয়ার্ডের জয়

চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ

সম্প্রতি দেশের বৃহত্তম “শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক” ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বহুল আলোচিত, আপাদমস্তক অসৎ কর্মকর্তা এম খুরশীদ আলমকে। ব্যাংকটির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জোবায়দুর রহমানের পদত্যাগের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুরশীদ আলমকে এই পদে নিয়োগ দেয় সরকার। খুরশীদ আলম এর আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন। তার এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ব্যাংকপাড়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধনের আয়োজন এবং এটিকে বাধা দিতে গিয়ে আজ সোমবার মতিঝিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও রণক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ব্যাংক পাড়ায় খুরশীদ আলম একজন অসৎ ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট-লুটেরা আমলে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তোপের মুখে হাসিনার মতো তাকেও পালিয়ে যেতে হয়। পরবর্তীতে পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডেপুটি গভর্নর থাকাকালীন তিনি বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছেন। দেশের ব্যাংকিং খাত লুটেরা ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোকে (যেমন এস আলম গ্রুপ) অবৈধ সুবিধা বা ঋণ আদায়ে ব্যাকহ্যান্ড সহযোগিতা করেছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, অসৎ এবং আর্থিক কেরেঙ্কারিতে জড়িত কর্মকর্তা দিয়ে দেশের শীর্ষ এই বেসরকারি ব্যাংকটি কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এছাড়া তারা ব্যাংকটির উপর গ্রাহকের আস্থা হারানোরও শঙ্কা প্রকাশ করছেন। উল্লেখ্য, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতি দেয় হাসিনা সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকে দুর্নীতি : খুরশীদ আলম ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসপ্রধানের (মহাব্যবস্থাপক) দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে কৌশলে কেনাকাটা ও সংস্কারের নামে অন্তত ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা অনুসন্ধানে অর্থ আত্মসাতের এ তথ্য উঠে এসেছে। জানা যায়, সেসময় নিজের মেয়ে ও মেয়ের বন্ধু-বান্ধবদের আপ্যায়নের বিলও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকায়।
তদন্তে খুরশীদ আলমের এসব দুর্নীতির তথ্য উঠে আসলে তাকে ওএসডি করে ঢাকায় এনে মানব সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরপর দু’টি তদন্তে তার অনিয়মের তথ্য উঠে আসলেও সেসময় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং তাকে সচিব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। জানা যায়, হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

খুরশীদ আলম নিজের পকেট ভারি করার জন্য কেনাকাটা ও সংস্কারের কাজে আশ্রয় নেন অর্থ চুরির এক অভিনব কৌশলের। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব কৌশলের তথ্য। টেন্ডার আহ্বান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মঞ্জুরি এড়াতে এক কাজকে একাধিকভাবে বিভক্ত করেন খুরশীদ আলম। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী কোনো একক ক্রয় কাজ একাধিকভাগে ভাগ করে দরপত্র আহ্বান করা যাবে না। কিন্তু খুরশীদ আলম প্রতিটি কাজ করেছেন খণ্ড-খণ্ড করে। আবার কোনো কাজ না করেও বিল তুলেছেন। নিজের অনুমোদিত ব্যয়সীমা ৫০ হাজার টাকার মধ্যে রেখে খণ্ড-খণ্ডভাবে কাজ করান তিনি। এভাবে মোট এক কোটি ২৯ লাখ টাকা কাজের ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এর মধ্যে বিভিন্ন নির্মাণকাজে ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৭৪১ টাকার ব্যয় থেকে সরাসরি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল। আর আসবাবপত্র কেনায় ৪৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা খরচ দেখানো হলেও মাত্র ২৫ লাখ টাকার আসবাব কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫৬০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তদন্ত দল মনে করে, প্রকৃত আত্মসাতের পরিমাণ আরও অনেক বেশি ছিল। ধারণা করা হয়, আরও প্রায় ৭০ লাখ টাকার কাজ পরিদর্শন বা তদন্তের বাইরে থেকে গিয়েছিল। যার অন্তত অর্ধেকই আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এস আলম সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকারের আমলে তিনি ডলার বাজারের অস্থিরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হন এবং এস আলম গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক কেলেঙ্কারি ও নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেননি।
আন্দোলনকারী ও ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের দাবি, এস আলম সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে বসানোর মাধ্যমে মূলত ব্যাংক লুটেরা ও পাচারকারীদের পুনর্বাসিত করার চেষ্টা চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে যে চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে “ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির দোসর” আখ্যা পেয়ে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন, খুরশীদ আলম ছিলেন তাদের অন্যতম।
এসব বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম খুরশীদ আলমের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মীর শাহে আলমের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে শিবগঞ্জের সমাজ ও শিক্ষার মানচিত্র

চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ

আপডেট সময় ১১:০৮:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

সম্প্রতি দেশের বৃহত্তম “শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক” ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বহুল আলোচিত, আপাদমস্তক অসৎ কর্মকর্তা এম খুরশীদ আলমকে। ব্যাংকটির সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জোবায়দুর রহমানের পদত্যাগের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুরশীদ আলমকে এই পদে নিয়োগ দেয় সরকার। খুরশীদ আলম এর আগে তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন। তার এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই ব্যাংকপাড়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের মানববন্ধনের আয়োজন এবং এটিকে বাধা দিতে গিয়ে আজ সোমবার মতিঝিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও রণক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

ব্যাংক পাড়ায় খুরশীদ আলম একজন অসৎ ও দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট-লুটেরা আমলে তিনি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তোপের মুখে হাসিনার মতো তাকেও পালিয়ে যেতে হয়। পরবর্তীতে পদত্যাগ করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ডেপুটি গভর্নর থাকাকালীন তিনি বিশেষ সুবিধা ভোগ করেছেন। দেশের ব্যাংকিং খাত লুটেরা ও বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠীগুলোকে (যেমন এস আলম গ্রুপ) অবৈধ সুবিধা বা ঋণ আদায়ে ব্যাকহ্যান্ড সহযোগিতা করেছিলেন।

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা বলেছেন, অসৎ এবং আর্থিক কেরেঙ্কারিতে জড়িত কর্মকর্তা দিয়ে দেশের শীর্ষ এই বেসরকারি ব্যাংকটি কতটা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এছাড়া তারা ব্যাংকটির উপর গ্রাহকের আস্থা হারানোরও শঙ্কা প্রকাশ করছেন। উল্লেখ্য, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ও পদোন্নতি দেয় হাসিনা সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকে দুর্নীতি : খুরশীদ আলম ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসপ্রধানের (মহাব্যবস্থাপক) দায়িত্ব পালন করেন। এ সময়ে কৌশলে কেনাকাটা ও সংস্কারের নামে অন্তত ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা অনুসন্ধানে অর্থ আত্মসাতের এ তথ্য উঠে এসেছে। জানা যায়, সেসময় নিজের মেয়ে ও মেয়ের বন্ধু-বান্ধবদের আপ্যায়নের বিলও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের টাকায়।
তদন্তে খুরশীদ আলমের এসব দুর্নীতির তথ্য উঠে আসলে তাকে ওএসডি করে ঢাকায় এনে মানব সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত রাখা হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরপর দু’টি তদন্তে তার অনিয়মের তথ্য উঠে আসলেও সেসময় তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে বরং তাকে সচিব বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। জানা যায়, হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

খুরশীদ আলম নিজের পকেট ভারি করার জন্য কেনাকাটা ও সংস্কারের কাজে আশ্রয় নেন অর্থ চুরির এক অভিনব কৌশলের। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসে এসব কৌশলের তথ্য। টেন্ডার আহ্বান এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মঞ্জুরি এড়াতে এক কাজকে একাধিকভাবে বিভক্ত করেন খুরশীদ আলম। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী কোনো একক ক্রয় কাজ একাধিকভাগে ভাগ করে দরপত্র আহ্বান করা যাবে না। কিন্তু খুরশীদ আলম প্রতিটি কাজ করেছেন খণ্ড-খণ্ড করে। আবার কোনো কাজ না করেও বিল তুলেছেন। নিজের অনুমোদিত ব্যয়সীমা ৫০ হাজার টাকার মধ্যে রেখে খণ্ড-খণ্ডভাবে কাজ করান তিনি। এভাবে মোট এক কোটি ২৯ লাখ টাকা কাজের ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

এর মধ্যে বিভিন্ন নির্মাণকাজে ৭৯ লাখ ৪ হাজার ৭৪১ টাকার ব্যয় থেকে সরাসরি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত দল। আর আসবাবপত্র কেনায় ৪৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকা খরচ দেখানো হলেও মাত্র ২৫ লাখ টাকার আসবাব কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ২৪ লাখ ৯৩ হাজার ৫৬০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তদন্ত দল মনে করে, প্রকৃত আত্মসাতের পরিমাণ আরও অনেক বেশি ছিল। ধারণা করা হয়, আরও প্রায় ৭০ লাখ টাকার কাজ পরিদর্শন বা তদন্তের বাইরে থেকে গিয়েছিল। যার অন্তত অর্ধেকই আত্মসাৎ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এস আলম সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ : খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকারের আমলে তিনি ডলার বাজারের অস্থিরতা ঠেকাতে ব্যর্থ হন এবং এস আলম গ্রুপের হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংক কেলেঙ্কারি ও নীতিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনোই ব্যবস্থা নেননি।
আন্দোলনকারী ও ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের দাবি, এস আলম সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগী খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ পদে বসানোর মাধ্যমে মূলত ব্যাংক লুটেরা ও পাচারকারীদের পুনর্বাসিত করার চেষ্টা চলছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের তীব্র আন্দোলনের মুখে যে চারজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে “ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির দোসর” আখ্যা পেয়ে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন, খুরশীদ আলম ছিলেন তাদের অন্যতম।
এসব বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম খুরশীদ আলমের মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।