রংপুরের পীরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা (সচিব) আব্দুর রহিম প্রামানিকের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার মেয়র কিংবা প্রশাসকের সিদ্ধান্তও তার মনপুত না হলে বাস্তবায়ন হতো না।
২০১৫ সালে পীরগঞ্জ পৌরসভা গঠনের পর অতিরিক্ত দায়িত্বে যোগদান করেন পলাশবাড়ি পৌরসভার সচিব আব্দুর রহিম। পরে তৎকালীন মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামিমের ঘনিষ্ঠ হয়ে পৌরসভার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে রাজস্ব খাত থেকে লাখ লাখ টাকা উত্তোলন, উন্নয়ন কাজের কমিশন বাণিজ্য এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের মাধ্যমে গড়ে তোলেন একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট।
পৌরসভার সাবেক দুই প্রকৌশলী ও একাধিক কাউন্সিলর নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উন্নয়ন কাজের বিল নিতে ঠিকাদারদের ৬ থেকে ৭ শতাংশ কমিশন দিতে হতো। এছাড়াও বিভিন্ন প্রকল্পের জামানতের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে দাখিলকৃত অভিযোগে বলা হয়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে উন্নয়ন তহবিল থেকে কোনো কাজ না করেই প্রায় ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জনতা ব্যাংক পীরগঞ্জ শাখার একাধিক চেকের মাধ্যমে এসব টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স হাফসা ট্রেডার্স”-এর নামে উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া মৃত্তিকা এগ্রো ফার্ম ও অন্যান্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানতের প্রায় ৫ লাখ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগও দুদকে জমা পড়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা কোনো আবেদন বা স্বাক্ষর না করলেও জামানতের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
এছাড়াও বিগত বছরের ২৬ অক্টোবর আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস ডেলিভারী প্রকল্প -২ এর সুপারভাইজার ও এডমিন, ফাইন্যান্স ও মনিটরিং অফিসার মিজানুর রহমান জেলা প্রসাশক বরাবরে তাকে বিনা নোটিশে চাকুরিচ্যুত সহ পৌর সচিবের নানা অনিয়ম ও দুনীর্তির অভিযোগ লিখিতভাবে জানান। এ বিষয়ে তৎকালিন জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুনকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পপি খাতুন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অভিযোগ তদন্তে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সহকারী প্রোগ্রামার তথ্য ও প্রযুক্তি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এছাড়াও পৌরসভা কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা ১৯৯২-পরিপন্থী ২০২২ সাল থেকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে পীরগঞ্জ পৌরসভায় পাপড়ি রানী সাহা নামের এক টিকাদান কর্মীকে চাকুরিতে বহাল রেখে নিয়মিত হাজার হাজার টাকা বেতন-ভাতা পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে পৌর নির্বাহী আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে, পৌরসভায় চাকরি দেওয়ার নামে স্বজনপ্রীতি, কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করা এবং বিধিমালা লঙ্ঘন করে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও নানা ধরনের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহিম প্রামানিক বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। একটি কুচক্রী মহল সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিচ্ছে। কাজ না করে কোনো বিল উত্তোলন বা পরিশোধ করা হয়নি। বিভিন্ন তদন্তে আমি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছি।”
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 





















