নান্দাইল উপজেলার রাজগাতি ইউনিয়নের দরিল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে একটি আধাপাকা রাস্তা। তবে রাস্তা ছেড়ে বিদ্যালয়ের মাঠ দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর।
দরিল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আজন শিক্ষক এবং ২০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৯৩৮ সালে ৫২ শতক জমির ওপর গড়ে ওঠে বিদ্যালয়টি। দ্বিতল বিদ্যালয় ভবনের সামনে একটি মাঠ। নান্দাইল-তাড়াইল পাকা সড়ক থেকে একটি আধাপাকা রাস্তা উত্তর দিক থেকে মাঠের পশ্চিম পাশ দিয়ে দক্ষিণ দিকে চলে গেছে। কিন্তু দূরত্ব কমানোর জন্য বিদ্যালয়ের মাঠ দিয়ে চলাচল করছে যানবাহন ও পথচারীরা। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে চলাচলের কারণে মাঠ কোনাকুনি রাস্তা হয়ে গেছে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তা ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় একাকার এবং বর্ষাকালে কর্দমাক্ত হয়ে যায় মাঠটি।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে খেলাধুলা করছে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যেই কিছুক্ষণ পরপর ধুলাবালু উড়িয়ে চলাচল করছে মাটিভর্তি ট্রাক্টর। যানবাহন চলাচলের শব্দ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ দূরত্বে চলে যাচ্ছে। গাড়ি চলে যাওয়ার পর আবার খেলাধুলায় নেমে পড়ছে তারা। বিদ্যালয়ে এসে খেলাধুলা করতে গেলে তাদের নাকি সব সময় এমনটাই করতে হয় বলে জানায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণামনি ও লিয়ামনি।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবেল ও হাসনাত জানায়, গাড়িগুলো সড়ক দিয়ে চলাচল করলে তাদের কোনো সমস্যা ছিল না। মাঠের চারপাশে প্রাচীর না দিলে মাঠ দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ করা যাবে না বলেও জানায় তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমুদ্দিন বলেন, ‘এভাবে কি পড়াশোনা হয়! বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ না করলে এই ঝামেলা থেকে মুক্তি মিলবে না এই ছাত্র-ছাত্রীদের।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুজ্জামানের ভাষ্য, মাঠ দিয়ে যানবাহন চলাচলের কারণে অফিসসহ শ্রেণিকক্ষগুলো ধুলাবালুতে একাকার হয়ে যায়। তা ছাড়া কর্মরত শিক্ষকরা সর্বক্ষণ ভয়ে ব্যতিব্যস্ত থাকেন, কখন কোন শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পড়ে। তিনি জানান, একটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানিয়েছেন, কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মালেক বিশ্বাস জানান, বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য চাহিদা পাঠায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিস। অনুমোদন হয়ে এলে এলজিইডির মাধ্যমে শুধু কাজ বাস্তবায়িত হয়।
নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন-নেছা বেগম বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য চাহিদা পাঠিয়েছি। সেখানে আলোচ্য বিদ্যালয়ের নামটি আছে কিনা, তা না দেখে বলতে পারব না। তবে যেহেতু স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তাই আগামীতে ওই বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি 



















