শুকনো জায়গা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ছাতকে

দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি
১৯ জুন ২০২২, ০৮:১৪ অপরাহ্ন
Link Copied!

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি 


সুনামগঞ্জের ছাতকে স্মরণকালের সব বন্যা রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বন্যা পরিস্থিতি। উপজেলা শিল্পনগরী শহরে ইঞ্চি পরিমাণ শুকনো জায়গাও নেই। পানির নিচে সব কিছু মাঠ-খাট, ক্ষেত-খামার চলে গেছে। সরকারি ত্রাণসামগ্রীর জন্য হাহাকার চলছে। অধিকাংশ আশ্রয়কেন্দ্রে কেউ খোঁজখবর নেননি বলে বন্যার্ত বানভাসি মানুষের অভিযোগ। 


বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে সব হাটবাজার ও রাস্তাঘাট। কয়েক লাখ পরিবার, বাসাবাড়ি, কাঁচাঘরের কোথাও গলা পানি, কোথাও কোমরপানি। এক মাসের ব্যবধানে আবারও ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। বন্যায় উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অনেক ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মন্দির। উপজেলা পরিষদের সব কার্যালয় বাসাবাড়ি, থানা ও হাসপাতাল বন্যার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নৌকা ছাড়া চলাচল করা যাচ্ছে না।


সুরমা নদীতে খেয়া পারাপারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার থেকে এখানে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সুরমা, পিয়াইন, চেলা নদীসহ সব নদনদীতে পানিবৃদ্ধি অব্যাহত ও নদনদীর পানি প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। হাজার-হাজার মানুষ বিভিন্ন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। সরেজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয়হীন মানুষ পানিতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। এ ছাড়া নিজের গবাদি পশুগুলো পানিতে ভেসে যাচ্ছে বলে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন।


সিলেট-সুনামগঞ্জ মহাসড়ক কোমরপানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার কারণে সারা দেশের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। অধিকাংশ এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে ছাতক-সিলেট রেললাইনও। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদনদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত।


এ ব্যা পারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, নিজের বাসভবনসহ পরিষদের সব বাসাবাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। বিপদগ্রস্ত মানুষকে উদ্ধারের জন্য প্রশাসন নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে। সরকারি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম ও অব্যাহত রাখা হয়েছে।  তিনি বলেন, উপজেলার উঁচু এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।