অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ ছিলেন ‘দ্য আর্চ’ ডেসমন্ড টুটু

দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি
২৭ ডিসেম্বর ২০২১, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
Link Copied!

ডেসমন্ড টুটু ভীষণ আশাবাদী মানুষ ছিলেন। সবসময় হাসি লেগে থাকতো তার মুখে। ‘দ্য আর্চ’ হিসেবে ডেসমন্ড টুটু কখনই জনসমক্ষে আবেগ প্রকাশে ভয় পেতেন না। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে তিনি আনন্দে নেচেছিলেন। শুধু আবেগ নয়, যা সত্য তা প্রকাশেও তিনি ছিলেন নির্ভীক। টুটু চেয়েছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বে পরিচিত হবে বহু জাতি ও সংস্কৃতির দেশ হিসেবে। সেটা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দুঃখ পেয়েছিলেন তিনি।

দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গরা প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করলে শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের অপরাধ তদন্তের ভার তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন নেলসন ম্যান্ডেলা। পরে কৃষ্ণাঙ্গ সরকারের নানা পদক্ষেপের খোলামেলা সমালোচনাও করেছেন তিনি। সত্য ও ন্যায়ের প্রচারে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের সমালোচনা করায় তাকে মুখ বন্ধও রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু টুটু তাতে দমে যাননি।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী ডেসমন্ড টুটুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে দক্ষিণ আফ্রিকা জুড়ে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ‘বিশ্বাসই হচ্ছে না তিনি নেই। আমরা ভাগ্যবান তিনি আমাদের মাঝে জন্মেছিলেন, আমরা তাকে পাশে পেয়েছি।’

শুধু দক্ষিণ আফ্রিকা নয়, সারা বিশ্বে কোটি কোটি মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম নেতা । তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন পোপ ফ্রান্সিস, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।  

স্থানীয় সময় গতকাল রবিবার টুটু শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ শ্বেতাঙ্গ প্রেসিডেন্ট এফডব্লিউ ডি ক্লার্কের মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরেই মারা গেলেন টুটু। আগামী ১ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ডেসমন্ড টুটুর রাষ্ট্রীয় সমাধি সম্পন্ন হবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্বাধীন হতে সাহায্য করেছেন টুটু। সংখ্যালঘু শ্বেতাঙ্গ সরকার দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে যে বর্ণবাদী শাসন ব্যবস্থা চাপিয়ে দিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার ছিল অগ্রণী ভূমিকা।’


আমাদের মাতৃভূমি