ক্ষতি হাজার কোটি টাকার বেশি

দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি
১২ জুন ২০২২, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
Link Copied!

মাতৃভূমি ডেস্ক


সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোয় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। ওই ডিপোর সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) হাতে এসেছে। বিস্ফোরণে আহত ও দগ্ধ ৭৪ জনের চিকিৎসা চলছে সরকারি-বেসরকারি চার সেবাকেন্দ্রে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর বন্দর সীমিত করেছে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড সংরক্ষণ।



বেসরকারি ডিপো মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) সভাপতি নুরুল কাইয়ুম খান বলেছেন, ‘বিএম ডিপোয় কী পরিমাণ কনটেইনার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।’



বিএম কনটেইনার ডিপোর প্রধান প্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপের জিএম ও মুখপাত্র শামসুল হায়দার সিদ্দিকী বলেন, ‘এ ডিপোয় ৪ হাজার ৩০০-এর মতো কনটেইনার ছিল। এর মধ্যে ১০০টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আংশিক কিংবা অর্ধেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েক শ। কনটেইনারগুলোর বেশির ভাগই ছিল তৈরি পোশাকের। ক্ষয়ক্ষতির হিসাব কষতে সময় লাগবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এক থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।’ বিজিএমইএর একাধিক সূত্রমতে, বিএম কনটেইনার ডিপোর অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণের কারণে গার্মেন্ট মালিকরা অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক জটিলতায় পড়বেন। বন্ড সুবিধায় আনা ব্যাক টু ব্যাক এলসির মাধ্যমে তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে না পারায় কাস্টমস বন্ডের মামলা খেতে হবে ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশ ব্যাংক, ক্রেতাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে কৈফিয়ত দিতে হবে। যা পোশাক ব্যবসায়ীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্ধারিত সময়ে অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে বিশে^র কাছে সুনাম ক্ষুণ্ন হবে।



বিএম ডিপোয় ৮১ ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও রয়ে গেছে ধ্বংসস্তূপ। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ ও অর্ধপোড়া কনটেইনার। ক্ষতিগ্রস্ত কনটেইনারের বেশির ভাগ হচ্ছে রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট পণ্য। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডে ১৫ কোটি ডলার বা প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার পণ্য পুড়ে গেছে। যার মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি তৈরি পোশাক। অর্থনৈতিক ক্ষতি ছাড়াও আগুন, উত্তাপ ও ধোঁয়া ছড়িয়েছে কয়েক কিলোমিটার এলাকায়। ছড়িয়েছে বিষাক্ত গ্যাস। এতে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যহানির কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   



এদিকে সিআইডির পুলিশ সুপার শাহনেওয়াজ খালেদ বলেন, ‘আজ (শনিবার) সকালে বিএম কনটেইনার ডিপো থেকে সাতটি ডিভিআর মেশিন জব্দ করা হয়। ফুটেজগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।’ জানা যায়, গতকাল সকালে সিআইডির একটি দল ডিপোর আইটি রুমে যায়। তারা ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি সাতটি ডিভিআর জব্দ করেন। ১১৮টি সিসিটিভির মাধ্যমে ডিপো মনিটরিং করা হতো। অন্যদিকে গতকাল বিকালে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে আহত ও দগ্ধ ৭৪ জনের চিকিৎসা চলছে সরকারি-বেসরকারি চারটি সেবাকেন্দ্রে। তাদের অবস্থা দিন দিন ভালো হচ্ছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৪, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১০, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১ ও পার্ক ভিউ হাসপাতালে ৯ জন। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. ইলিয়াস চৌধুরী বলেছেন, এদের চিকিৎসায় সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এদিকে বিএম ডিপোয় ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের পর তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে মেরিটাইম ওয়ার্ল্ডে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ও ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ থেকে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড চালান সীমিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন সিঙ্গাপুর বন্দর কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ শিপিং অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ বলেন, সিঙ্গাপুর পুলিশ ফোর্স (এসপিএফ) হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডকে বিস্ফোরকদ্রব্য হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে। এসপিএফের লাইসেন্স মোতাবেক মজুদের একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। হঠাৎ সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বন্দরে পণ্যটির মজুদ বেড়ে গেছে। তাই হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের চালান সীমিত আকারে হ্যান্ডলিং করবে সিঙ্গাপুর পোর্ট। এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছেন সিঙ্গাপুর বন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে শিল্পের কাঁচামাল হওয়ায় হাইড্রোজেন পারঅক্সাইডের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ হবে না।