ঢাকা ০৮:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প কেন্দ্রীয় চুক্তিতে যে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে ভারত পিএসএলে নিরাপত্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগ, যা বলছে পিসিবি যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী পাটুরিয়ায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, পারাপারে চলছে ১৮টি লঞ্চ চট্টগ্রামে ডিসির নির্দেশে যন্ত্রপাতি বিক্রি করে শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ মন্ত্রী-এমপিরা কে কোথায় ঈদ করবেন? ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শরীয়তপুর জেলা বি এন পি সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর থানা বি এন পির আহ্বায়ক এস এম এ হামিদ ঈশ্বরদী থেকে এলো উদ্ধারকারী ট্রেন, সৈয়দপুর থেকে আসছে আরেকটি রূহানীনগর এর পক্ষ থেকে সম্মানিত ইমাম-মুয়াজ্জিনগণকে  হাদিয়া প্রদান

অভিমান ভেঙে এক মঞ্চে রওশন-কাদের

মান-অভিমান ভুলে এক মঞ্চে পাশাপাশি চেয়ারে বসেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। 

রোববার (১ জানুয়ারি) বিকেলে জাপার ৩৭তম সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তারা ভাবি-দেবর মঞ্চে পাশাপাশি বসেন।পার্টির নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশের মঞ্চে প্রথমে আসেন জিএম কাদের। তার আসার আধাঘণ্টা পরে মঞ্চে আসেন রওশন এরশাদ। শারীরিকভাবে অসুস্থ রওশন এরশাদ সমাবেশস্থলে আসলে তাকে এগিয়ে নিয়ে এসে মঞ্চে বসান জিএম কাদেরসহ অন্য নেতারা। তবে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় মঞ্চে থাকলেও কোনো বক্তব্য দেননি জিএম কাদের। অন্যদিকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রওশন এরশাদ। এতে তাকে সাহায্য করেন পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

জাপার চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী বলেন, মঞ্চে প্রথমে আসেন চেয়ারম্যান জিএম কাদের। রওশন এরশাদ ম্যাডাম যেহেতু অসুস্থ তাই তিনি পরে মঞ্চে আসেন। মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার আগে রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলেন। তবে মঞ্চে থাকলেও জিএম কাদের কোনো বক্তব্য দেননি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে রওশন এরশাদ বলেন, দীর্ঘ ১১ মাস পর আজ আমি এই প্রথম সরাসরি উপস্থিত থেকে মহান আল্লাহর রহমতে কিছু কথা বলতে পারছি। এতে আমি খুবই আবেগ আপ্লুত।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য, জনপ্রিয় এবং ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে বলেও উল্লেখ করে রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময় গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। জাতীয় পার্টি কখনো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিল না, ভবিষ্যতেও ধ্বংসাত্মক এবং অপ-রাজনীতিতে জড়াবে না। আমাদের সদাচরণ এবং গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের মন জয় করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হবো।

সভাপতির বক্তব্যে জাপার মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সমাবেশে উপস্থিত থেকেও যাদের মামলার কারণে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বক্তব্য দিতে পারেননি। তাদের জায়গা পার্টিতে হবে না। জাপার কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভক্তি নেই। বেগম রওশন এরশাদ ও গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সালমা ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু ও জহিরুল আলম রুবেলসহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ আগস্ট ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ করে জাপার সম্মেলনের ডাক দেন রওশন এরশাদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রওশন এরশাদকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার আসন থেকে সরিয়ে দিতে স্পিকারকে চিঠি দেন জাপার সংসদ সদস্যরা। দেবর-ভাবির মধ্যকার এই দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে দলীয় পদ হারান দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ কয়েকজন নেতা।

এরপর ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরে আসার পর গত ২৯ নভেম্বর রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জিএম কাদেরের সাক্ষাৎ করেন রওশন এরশাদ। পাশাপাশি সেদিন একই টেবিলে বসে নাস্তা করেন দুজন। এরপর থেকে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব কমতে থাকে। পরবর্তীতে গত ১৩ ডিসেম্বর গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না : ট্রাম্প

অভিমান ভেঙে এক মঞ্চে রওশন-কাদের

আপডেট সময় ০৯:১৭:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৩

মান-অভিমান ভুলে এক মঞ্চে পাশাপাশি চেয়ারে বসেছেন সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জিএম কাদের)। 

রোববার (১ জানুয়ারি) বিকেলে জাপার ৩৭তম সমাবেশ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে তারা ভাবি-দেবর মঞ্চে পাশাপাশি বসেন।পার্টির নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশের মঞ্চে প্রথমে আসেন জিএম কাদের। তার আসার আধাঘণ্টা পরে মঞ্চে আসেন রওশন এরশাদ। শারীরিকভাবে অসুস্থ রওশন এরশাদ সমাবেশস্থলে আসলে তাকে এগিয়ে নিয়ে এসে মঞ্চে বসান জিএম কাদেরসহ অন্য নেতারা। তবে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় মঞ্চে থাকলেও কোনো বক্তব্য দেননি জিএম কাদের। অন্যদিকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রওশন এরশাদ। এতে তাকে সাহায্য করেন পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু।

জাপার চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী বলেন, মঞ্চে প্রথমে আসেন চেয়ারম্যান জিএম কাদের। রওশন এরশাদ ম্যাডাম যেহেতু অসুস্থ তাই তিনি পরে মঞ্চে আসেন। মঞ্চে বক্তব্য দেওয়ার আগে রওশন এরশাদ ও জিএম কাদের নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলেন। তবে মঞ্চে থাকলেও জিএম কাদের কোনো বক্তব্য দেননি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে রওশন এরশাদ বলেন, দীর্ঘ ১১ মাস পর আজ আমি এই প্রথম সরাসরি উপস্থিত থেকে মহান আল্লাহর রহমতে কিছু কথা বলতে পারছি। এতে আমি খুবই আবেগ আপ্লুত।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে যোগ্য, জনপ্রিয় এবং ত্যাগী নেতাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে বলেও উল্লেখ করে রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি সবসময় গঠনমূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। জাতীয় পার্টি কখনো ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে বিশ্বাসী ছিল না, ভবিষ্যতেও ধ্বংসাত্মক এবং অপ-রাজনীতিতে জড়াবে না। আমাদের সদাচরণ এবং গঠনমূলক রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের মন জয় করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হবো।

সভাপতির বক্তব্যে জাপার মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, সমাবেশে উপস্থিত থেকেও যাদের মামলার কারণে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বক্তব্য দিতে পারেননি। তাদের জায়গা পার্টিতে হবে না। জাপার কো-চেয়ারম্যান এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, জাতীয় পার্টিতে কোনো বিভক্তি নেই। বেগম রওশন এরশাদ ও গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নেতৃত্বে জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ।

সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জাপার সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, সালমা ইসলাম, প্রেসিডিয়াম সদস্য শফিকুল ইসলাম সেন্টু ও জহিরুল আলম রুবেলসহ আরও অনেকে।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৬ আগস্ট ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ করে জাপার সম্মেলনের ডাক দেন রওশন এরশাদ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রওশন এরশাদকে সংসদের বিরোধীদলীয় নেতার আসন থেকে সরিয়ে দিতে স্পিকারকে চিঠি দেন জাপার সংসদ সদস্যরা। দেবর-ভাবির মধ্যকার এই দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে দলীয় পদ হারান দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মশিউর রহমান রাঙ্গাসহ কয়েকজন নেতা।

এরপর ব্যাংকক থেকে দেশে ফিরে আসার পর গত ২৯ নভেম্বর রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে জিএম কাদেরের সাক্ষাৎ করেন রওশন এরশাদ। পাশাপাশি সেদিন একই টেবিলে বসে নাস্তা করেন দুজন। এরপর থেকে তাদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব কমতে থাকে। পরবর্তীতে গত ১৩ ডিসেম্বর গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা।