ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি অযৌক্তিক ও অন্যায় : ক্যাব

ভোক্তাদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে খেয়াল-খুশিমতো ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি অন্যায় এবং অযৌক্তিক বলে জানিয়েছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ‘ওষুধের অযৌক্তিক ও অনৈতিকভাবে মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রক্রিয়া, সেটি যুক্তি ও ন্যায়সঙ্গত কী না সন্দেহ আছে। একসময়ে দুই শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। কিন্তু পরবর্তীতে তা কমিয়ে ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করছে তারা। কারণ এর বাইরে যে ওষুধগুলো রয়েছে, সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ অনেকটা নির্ভর করে ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপরই। এতে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে বলে আমাদের ধারণা।

গোলাম রহমান বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প ক্রমান্বয়ে বড় হচ্ছে। স্বাধীনতার আগে দেশে মাত্র ২-৩ শতাংশ ওষুধ তৈরি হতো। সেসময় ওষুধ আমদানি করে বেশিরভাগ চাহিদা পূরণ করতে হতো। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ৭০ ভাগ ওষুধ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতির পর দেশে ওষুধ তৈরির কারখানা চালু হয়। এরপর এই শিল্পকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। এখন চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশেই তৈরি হচ্ছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ওষুধের বাজার বিস্তার লাভ করেছে।

ক্যাব সভাপতি আরও বলেন, জেনেরিক নামের যে দুই শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ঔষধ প্রশাসনের ছিল, তা পুনর্বহাল করা হোক। ওষুধ কোম্পানিগুলোকে কোনোরকম জবাবদিহিতা ছাড়া মূল্য বৃদ্ধির যে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে বর্তমানে ঔষধ প্রশাসনের দক্ষতা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান করতে হবে। সম্প্রতি স্যালাইনের যে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে, এটা একটা খুবই বাজে নজির, যেখানে ভোক্তাদের প্রতিনিধিরা আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বলে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা শুধু অনৈতিক নয়, এটা একটা বেআইনি কাজ।

এর আগে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে ক্যাবের কোষাধ্যক্ষ ড. মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার বলেন, দেশে ওষুধ শিল্প বিস্তার লাভ করলেও ওষুধ তৈরির জন্য শতকরা ৯৭ শতাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যার মধ্যে অধিকাংশ কাঁচামাল ভারত ও চীন থেকে আসে। উন্নত বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকেও কিছু কাঁচামাল আসছে। তবে নিম্ন আয়ের দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা পেয়ে আসছে, যা ২০৩২ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হলে এই সুবিধা বহাল থাকবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ড. মঞ্জুর-ই-খোদা আরও বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সম্প্রতি আইভি ফ্লুয়িড জাতীয় ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় তালিকাভুক্ত ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের জন্য গঠিত টেকনিক্যাল সাব-কমিটির সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ৬টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২১টি জেনেরিক ৫৮টি পদের কস্টিং শিট পর্যালোচনা করা হয়।

এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে কলেরা স্যালাইন, হার্টম্যান সলিউশন, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ডেক্সটোজ, ডেক্সটোজ প্লাস সোডিয়াম ক্লোরাইড, মেট্রোভিজানল ও হিউম্যান ইনসুলিন। দেশে যখন প্রায় সব নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী তখন ওষুধের মতো এতো প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়ানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ওষুধের মার্ক আপ কমিয়ে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত বলে আমরা মনে করছি।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ৫৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, এমোক্সিলিন, ডায়াজিপাম, ফেনোবারবিটাল, এসপিরিন, ফেনোক্সিমিথাইল পেনিসিলিনসহ অন্যান্য গ্রুপের ওষুধ উল্লেখযোগ্য।

সরেজমিনে ফার্মেসিতে খুচরা ওষুধের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এসব ওষুধের মূল্য গত ছয় মাসের ব্যবধানে ১০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপের মূল্য বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। এছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, এন্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের মূল্য বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

এছাড়াও গ্যাস্টিকের ওষুধের মূল্য গত জুলাই মাস থেকে বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ। ২০ মিলিগ্রামের একটি ওমিপ্রাজল ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬ টাকা। আর ২০ মিলি গ্রামের রেবিপ্রাজল মূল্য ছিল ৫ টাকা তা বাড়িয়ে ৭ টাকা করা হয়েছে। এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেটের মূল্য বেড়েছে ১৭ থেকে ২০ শতাংশ। প্রতিটি ৫০০ মিলিগ্রামের সিডিউরিক জিম ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৫০ টাকা। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬০ টাকা। ২৫০ মিলি গ্রামের প্রতিটি ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৩০ টাকা। তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৫ টাকা।

উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের ওষুধের মূল্য বেড়েছে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। লুসার্টন পটাশিয়াম পাঁচ মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৮ টাকা। তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০ টাকা। পাঁচ মিলিগ্রামের এমভোলোপিনের মূল্য ছিল ১০ টাকা। সেটি ১২ টাকা করা হয়েছে। দুই মিলিগ্রামের একটি প্রাজোসিন ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ১০ টাকা, হয়েছে ১২ টাকা। আর ৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মূল্য বেড়েছে প্যারাসিটামল সিরাপের। গত তিন-চার মাসের ব্যবধানে প্যারাসিটামল সিরাপের মূল্য বেড়েছে ৭৫ শতাংশ, ট্যাবলেটে বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ থেকে ৩৩ শতাংশ। ২০ টাকার প্যারাসিটামল সিরাপের মূল্য বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ৮০ পয়সার ৫০০ মিলিগ্রামের প্যারাসিটামল ট্যাবলেট বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা আর ১ টাকা ৫০ পয়সার প্যারাসিটামল বাড়িয়ে ২ টাকা করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি অযৌক্তিক ও অন্যায় : ক্যাব

আপডেট সময় ১২:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২২

ভোক্তাদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে খেয়াল-খুশিমতো ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা পুরোপুরি অন্যায় এবং অযৌক্তিক বলে জানিয়েছে কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুরে ‘ওষুধের অযৌক্তিক ও অনৈতিকভাবে মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই দাবি জানায়।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রক্রিয়া, সেটি যুক্তি ও ন্যায়সঙ্গত কী না সন্দেহ আছে। একসময়ে দুই শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ছিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের। কিন্তু পরবর্তীতে তা কমিয়ে ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করছে তারা। কারণ এর বাইরে যে ওষুধগুলো রয়েছে, সেগুলোর মূল্য নির্ধারণ অনেকটা নির্ভর করে ওষুধ কোম্পানিগুলোর ওপরই। এতে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে বলে আমাদের ধারণা।

গোলাম রহমান বলেন, দেশের ওষুধ শিল্প ক্রমান্বয়ে বড় হচ্ছে। স্বাধীনতার আগে দেশে মাত্র ২-৩ শতাংশ ওষুধ তৈরি হতো। সেসময় ওষুধ আমদানি করে বেশিরভাগ চাহিদা পূরণ করতে হতো। ১৯৮১ সাল পর্যন্ত ৭০ ভাগ ওষুধ বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতির পর দেশে ওষুধ তৈরির কারখানা চালু হয়। এরপর এই শিল্পকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। এখন চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশ ওষুধ দেশেই তৈরি হচ্ছে। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও ওষুধের বাজার বিস্তার লাভ করেছে।

ক্যাব সভাপতি আরও বলেন, জেনেরিক নামের যে দুই শতাধিক ওষুধের মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব ঔষধ প্রশাসনের ছিল, তা পুনর্বহাল করা হোক। ওষুধ কোম্পানিগুলোকে কোনোরকম জবাবদিহিতা ছাড়া মূল্য বৃদ্ধির যে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে, তা প্রত্যাহার করতে হবে। একইসঙ্গে বর্তমানে ঔষধ প্রশাসনের দক্ষতা, যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে যেসব প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সমাধান করতে হবে। সম্প্রতি স্যালাইনের যে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে, এটা একটা খুবই বাজে নজির, যেখানে ভোক্তাদের প্রতিনিধিরা আপত্তি জানানো সত্ত্বেও তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত বলে মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটা শুধু অনৈতিক নয়, এটা একটা বেআইনি কাজ।

এর আগে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরে ক্যাবের কোষাধ্যক্ষ ড. মঞ্জুর-ই-খোদা তরফদার বলেন, দেশে ওষুধ শিল্প বিস্তার লাভ করলেও ওষুধ তৈরির জন্য শতকরা ৯৭ শতাংশ কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যার মধ্যে অধিকাংশ কাঁচামাল ভারত ও চীন থেকে আসে। উন্নত বিশ্বের কয়েকটি দেশ থেকেও কিছু কাঁচামাল আসছে। তবে নিম্ন আয়ের দেশ (এলডিসি) হিসেবে বাংলাদেশ ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক সুবিধা পেয়ে আসছে, যা ২০৩২ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে। তবে ২০২৬ সালে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হলে এই সুবিধা বহাল থাকবে কী না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

ড. মঞ্জুর-ই-খোদা আরও বলেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সম্প্রতি আইভি ফ্লুয়িড জাতীয় ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২০ নভেম্বর ২০২২ তারিখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় তালিকাভুক্ত ১১৭টি ওষুধের মূল্য নির্ধারণের জন্য গঠিত টেকনিক্যাল সাব-কমিটির সভার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি ৬টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২১টি জেনেরিক ৫৮টি পদের কস্টিং শিট পর্যালোচনা করা হয়।

এসব ওষুধের মধ্যে রয়েছে কলেরা স্যালাইন, হার্টম্যান সলিউশন, সোডিয়াম ক্লোরাইড, ডেক্সটোজ, ডেক্সটোজ প্লাস সোডিয়াম ক্লোরাইড, মেট্রোভিজানল ও হিউম্যান ইনসুলিন। দেশে যখন প্রায় সব নিত্যপণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী তখন ওষুধের মতো এতো প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বাড়ানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ওষুধের মার্ক আপ কমিয়ে ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের হস্তক্ষেপ করা উচিত বলে আমরা মনে করছি।

প্রসঙ্গত, গত ২০ জুলাই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ৫৩টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য পুনঃনির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর মধ্যে বহুল ব্যবহৃত প্যারাসিটামল, মেট্রোনিডাজল, এমোক্সিলিন, ডায়াজিপাম, ফেনোবারবিটাল, এসপিরিন, ফেনোক্সিমিথাইল পেনিসিলিনসহ অন্যান্য গ্রুপের ওষুধ উল্লেখযোগ্য।

সরেজমিনে ফার্মেসিতে খুচরা ওষুধের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এসব ওষুধের মূল্য গত ছয় মাসের ব্যবধানে ১০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ছয় মাসের ব্যবধানে শুধু প্যারাসিটামল সিরাপের মূল্য বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। এছাড়া গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, এন্টিবায়োটিক, উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধের মূল্য বেড়েছে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত।

এছাড়াও গ্যাস্টিকের ওষুধের মূল্য গত জুলাই মাস থেকে বেড়েছে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ। ২০ মিলিগ্রামের একটি ওমিপ্রাজল ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৫ টাকা। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬ টাকা। আর ২০ মিলি গ্রামের রেবিপ্রাজল মূল্য ছিল ৫ টাকা তা বাড়িয়ে ৭ টাকা করা হয়েছে। এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেটের মূল্য বেড়েছে ১৭ থেকে ২০ শতাংশ। প্রতিটি ৫০০ মিলিগ্রামের সিডিউরিক জিম ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৫০ টাকা। বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৬০ টাকা। ২৫০ মিলি গ্রামের প্রতিটি ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৩০ টাকা। তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩৫ টাকা।

উচ্চ রক্তচাপ ও হার্টের ওষুধের মূল্য বেড়েছে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত। লুসার্টন পটাশিয়াম পাঁচ মিলিগ্রামের একটি ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ৮ টাকা। তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ১০ টাকা। পাঁচ মিলিগ্রামের এমভোলোপিনের মূল্য ছিল ১০ টাকা। সেটি ১২ টাকা করা হয়েছে। দুই মিলিগ্রামের একটি প্রাজোসিন ট্যাবলেটের মূল্য ছিল ১০ টাকা, হয়েছে ১২ টাকা। আর ৫ মিলিগ্রামের ট্যাবলেট ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা করা হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মূল্য বেড়েছে প্যারাসিটামল সিরাপের। গত তিন-চার মাসের ব্যবধানে প্যারাসিটামল সিরাপের মূল্য বেড়েছে ৭৫ শতাংশ, ট্যাবলেটে বৃদ্ধি পেয়েছে ২০ থেকে ৩৩ শতাংশ। ২০ টাকার প্যারাসিটামল সিরাপের মূল্য বাড়িয়ে ৩৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ৮০ পয়সার ৫০০ মিলিগ্রামের প্যারাসিটামল ট্যাবলেট বাড়িয়ে করা হয়েছে ১ টাকা ২০ পয়সা আর ১ টাকা ৫০ পয়সার প্যারাসিটামল বাড়িয়ে ২ টাকা করা হয়েছে।