ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের ৬০ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ১০ কোটি মানুষ উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় এসেছে বলেছে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।  

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন (ইনফো-সরকার তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।এতে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, সবার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি উন্নত অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি স্তম্ভের মধ্যে কানেক্টিং সিটিজেন স্তম্ভের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইনফো-সরকার ফেজ-৩ প্রকল্পটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তারা দুই ধরনের ডিজিটাল সেবা দিচ্ছেন। একটি হলো পাবলিক সার্ভিস, যেমন: পর্চা, পাসপোর্ট আবেদন, এনআইডি, মিউটেশন, জন্ম ও মৃত সনদ, অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন ইত্যাদি এবং অন্যটি হলো বেসরকারি সেবা যেমন: এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, রেমিট্যান্স বিতরণ, পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজ ইত্যাদি। এসব সেবা প্রায় ২৬শ ইউনিয়নের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, গত চার বছর ধরে এই প্রকল্প থেকে উদ্যোক্তাদের বিনামূল্যে ৫ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। ইনফো-সরকার ফেজ-৩ নেটওয়ার্ক থেকে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভূমি অফিস এবং অন্যান্য সরকারি অফিসসহ গ্রাম পর্যায়ে এক লাখ নয় হাজার ২৪৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের ৬০ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ১০ কোটি মানুষ উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় এসেছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি চিত্র তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত নির্বাচনে তার ভিশন ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি গ্রামবাসীদের সব মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে চান। তিনি আমার গ্রাম, আমার শহর- নামে ভিশন ঘোষণা করেছিলেন।

পলক আরও বলেন, আমরা যদি আমাদের গ্রামবাসীকে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, আধুনিক সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারি, তাহলে গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তর বা স্থানান্তরিত হওয়ার প্রয়োজন হবে না। আমি মনে করি, আমরা যদি আইসিটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের শহর ও গ্রামীণ জীবনের আধুনিকীকরণ বাস্তবায়নের জন্য উভয় (বাংলাদেশ-চীন) সরকারের অনুমোদন পেতে পারি, তাহলে আমরা সত্যিই আমাদের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সব আধুনিক সেবা দিতে সক্ষম হব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। প্রতিমন্ত্রী পলক বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতকে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বিশেষ বিবেচনায় রাখার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. মুশফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনফো-সরকার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (গ্রেড-১: অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিকর্ণ কুমার ঘোষ। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে ধন্যবাদ জানান বিসিসির নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার। এ ছাড়া, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিআরআইজি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুওয়া ওয়ে এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও প্যান জুনফেং।

দেশের প্রান্তিক গ্রামীণ জনপদে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে এই প্রকল্প। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করার পাশাপাশি প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তর, বিদ্যালয়, কলেজ, গ্রোথ সেন্টার ও অন্যান্য সরকারি কার্যালয়ে নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপনের জন্য, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) নেটওয়ার্কের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো।

এছাড়া, জাতীয় আইসিটি নীতিমালা ২০১৫ এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ই-সার্ভিসে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় আইসিটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করতে জিওবির আওতায় পুলিশ ইউনিটের সর্বস্তরে অবাধ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা ছিল এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে এ প্রকল্পটিতে দেশের ২৬শ ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি দেওয়ার পাশাপাশি এক হাজার পুলিশ অফিস ভিপিএন কানেক্টিভিটির মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ইউডিসি থেকে গ্রামীণ জনগণকে প্রায় ৮০ কোটি সরকারি সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত নেটওয়ার্ক থেকে সারাদেশে ৮৪ হাজার ২৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযুক্ত হচ্ছে।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সরকারি সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সভা, সেমিনার, মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করে। ইনফো-সরকার তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত অবকাঠামো অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের তৃণমূল জনগণ এই ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের ফলে অনেক নাগরিক সুবিধা উপভোগ করছে। ফলে গ্রাম ও শহরের ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের বিশেষ অবদান রয়েছে।

প্রকল্পটি ক্রিয়েটিভ ইনক্লিউসিভ ডিজিটাল অপরচুনিটিস ক্যাটাগরিতে ই-এশিয়া ২০১৭ অ্যাওয়ার্ড, ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ক্যাটাগরিতে ২০১৮ সালে অ্যাসোসিও অ্যাওয়ার্ড এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ক্যাটাগরিতে ডব্লিউএসআইএস ২০১৯ এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড নেয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ দ্রুতগতির ইন্টারনেট পাচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ নভেম্বর ২০২২

দেশের ৬০ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ১০ কোটি মানুষ উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় এসেছে বলেছে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।  

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) রাজধানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন (ইনফো-সরকার তৃতীয় পর্যায়) শীর্ষক প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।এতে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

মন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বাংলাদেশ সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, সবার জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি উন্নত অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ডিজিটাল বাংলাদেশের চারটি স্তম্ভের মধ্যে কানেক্টিং সিটিজেন স্তম্ভের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইনফো-সরকার ফেজ-৩ প্রকল্পটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) উদ্যোক্তারা দুই ধরনের ডিজিটাল সেবা দিচ্ছেন। একটি হলো পাবলিক সার্ভিস, যেমন: পর্চা, পাসপোর্ট আবেদন, এনআইডি, মিউটেশন, জন্ম ও মৃত সনদ, অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন ইত্যাদি এবং অন্যটি হলো বেসরকারি সেবা যেমন: এজেন্ট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-কমার্স, রেমিট্যান্স বিতরণ, পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন, ফটোকপি, কম্পিউটার কম্পোজ ইত্যাদি। এসব সেবা প্রায় ২৬শ ইউনিয়নের ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, গত চার বছর ধরে এই প্রকল্প থেকে উদ্যোক্তাদের বিনামূল্যে ৫ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। ইনফো-সরকার ফেজ-৩ নেটওয়ার্ক থেকে সারাদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভূমি অফিস এবং অন্যান্য সরকারি অফিসসহ গ্রাম পর্যায়ে এক লাখ নয় হাজার ২৪৪টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প এলাকায় ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের ৬০ শতাংশ ভৌগোলিক এলাকার প্রায় ১০ কোটি মানুষ উচ্চগতির ইন্টারনেট সুবিধার আওতায় এসেছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে আলোকপাত করেন। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের উন্নয়নের একটি চিত্র তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত নির্বাচনে তার ভিশন ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি গ্রামবাসীদের সব মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে চান। তিনি আমার গ্রাম, আমার শহর- নামে ভিশন ঘোষণা করেছিলেন।

পলক আরও বলেন, আমরা যদি আমাদের গ্রামবাসীকে বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, আধুনিক সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারি, তাহলে গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তর বা স্থানান্তরিত হওয়ার প্রয়োজন হবে না। আমি মনে করি, আমরা যদি আইসিটি প্রকল্পের মাধ্যমে আমাদের শহর ও গ্রামীণ জীবনের আধুনিকীকরণ বাস্তবায়নের জন্য উভয় (বাংলাদেশ-চীন) সরকারের অনুমোদন পেতে পারি, তাহলে আমরা সত্যিই আমাদের নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সব আধুনিক সেবা দিতে সক্ষম হব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। প্রতিমন্ত্রী পলক বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূতকে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বিশেষ বিবেচনায় রাখার অনুরোধ জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মো. মুশফিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনফো-সরকার প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (গ্রেড-১: অতিরিক্ত দায়িত্ব) বিকর্ণ কুমার ঘোষ। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যে ধন্যবাদ জানান বিসিসির নির্বাহী পরিচালক রণজিৎ কুমার। এ ছাড়া, অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিআরআইজি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক গুওয়া ওয়ে এবং হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের সিইও প্যান জুনফেং।

দেশের প্রান্তিক গ্রামীণ জনপদে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে যাত্রা শুরু করে এই প্রকল্প। দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়তা করার পাশাপাশি প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল ইউনিয়ন পর্যায়ে বিভিন্ন দপ্তর, বিদ্যালয়, কলেজ, গ্রোথ সেন্টার ও অন্যান্য সরকারি কার্যালয়ে নেটওয়ার্ক সংযোগ স্থাপনের জন্য, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের (ইউডিসি) নেটওয়ার্কের ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো।

এছাড়া, জাতীয় আইসিটি নীতিমালা ২০১৫ এর লক্ষ্য অর্জনের জন্য গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ই-সার্ভিসে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এবং জাতীয় আইসিটি নেটওয়ার্কের সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ নেটওয়ার্ককে সংযুক্ত করতে জিওবির আওতায় পুলিশ ইউনিটের সর্বস্তরে অবাধ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা ছিল এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে এ প্রকল্পটিতে দেশের ২৬শ ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি দেওয়ার পাশাপাশি এক হাজার পুলিশ অফিস ভিপিএন কানেক্টিভিটির মাধ্যমে সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে ইউডিসি থেকে গ্রামীণ জনগণকে প্রায় ৮০ কোটি সরকারি সেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় স্থাপিত নেটওয়ার্ক থেকে সারাদেশে ৮৪ হাজার ২৪২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ব্রডব্যান্ড সংযুক্ত হচ্ছে।

কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সরকারি সব মন্ত্রণালয়/বিভাগ/দপ্তর/সংস্থাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সভা, সেমিনার, মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শনসহ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন করে। ইনফো-সরকার তৃতীয় পর্যায় প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত অবকাঠামো অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। গ্রামের তৃণমূল জনগণ এই ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনের ফলে অনেক নাগরিক সুবিধা উপভোগ করছে। ফলে গ্রাম ও শহরের ব্যবধান কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের বিশেষ অবদান রয়েছে।

প্রকল্পটি ক্রিয়েটিভ ইনক্লিউসিভ ডিজিটাল অপরচুনিটিস ক্যাটাগরিতে ই-এশিয়া ২০১৭ অ্যাওয়ার্ড, ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ক্যাটাগরিতে ২০১৮ সালে অ্যাসোসিও অ্যাওয়ার্ড এবং ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার ক্যাটাগরিতে ডব্লিউএসআইএস ২০১৯ এর চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আন্তর্জাতিক অ্যাওয়ার্ড নেয়।