ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

মহাষষ্ঠী তিথির মধ্য দিয়ে মিঠাপুকুরে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা

জগৎ মাতা দেবী দুর্গা হাতি বাহনে চড়ে আজ আসছেন ধরায় বুক জুড়ে ভক্তকূল।আবার কাঁদিয়ে দশমী তিথিতে নৌকায় যাবেন চলে সমস্ত অপশক্তি কে ধ্বংস করে। আজ ১অক্টোবর শনিবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে গোধূলি লগনো পার হতে না হতেই বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে জগৎ মাতা- দেবী দুর্গার সার্বজনীন দুর্গোৎসব শুরু হয়। আজ মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন মন্দিরে ষষ্ঠী পূজা আরম্ভ হয়।

দুষ্টের বিনাশ ও সকল অকল্যাণ ঘুচাতে প্রতি বছর শরতের এ তিথিতে দেবী দশভুজা মায়ের মর্ত্যে আগমন হয়। দুর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গার মর্ত্যে আগমনের সঙ্গে সঙ্গে, সদ্য ফোটা শিউলির মুহুর্মুহু গন্ধে জানান দেয় দশভুজা মা যে এসেছেন এই ধরার বুকে। এই ধারাবাহিকতায়,রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীগণ ১৩৪ টি পূজা মণ্ডপে দুর্গা মা’কে বরণে জন্য বরণডালা সাজিয়ে, মণ্ডপে মণ্ডপে অপেক্ষারত অগনিত ভক্তবৃন্দ। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমার গায়ে রংতুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীগণ, তার সাথে রঙিন সাজপোশাকে সজ্জিত করছে পূজা মণ্ডপের প্রতিটি প্রতিমাকে দানে দানে ভরিয়ে দিয়েছে মায়ের দু’হাতে।

পুরোদমে প্রতিটি মন্দিরে পূজোর পেন্ডেল, লাইটিং ও মন্দির সাজানোয় ব্যস্ত বিভিন্ন কর্মীরা। আজ থেকেই শুরু হয়েছে, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তের আনাগোনা সাথে ঢাক-ঢোল আর শঙ্খ বাজনায় পরিপূর্ণ সারা মন্দির জুড়ে। মিঠাপুকুর উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েগেছে। এখন দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেয়ার পালা। মিঠাপুকুর উপজেলায় এবার ১৩৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সরজমিন ঘুরে দেখা যায় , উপজেলার, জাইগীরহাট সার্বজনীন মন্দির, শালমারা মাঝিপড়া মন্দির, ঠাকুর বাড়ি সার্বজনীন মন্দির,শ্যামপুর মাঝিপড়া মন্দির, বিরাহীপুর সার্বজনীন মন্দির, মাঠেরহাট বনোমালী ডাক্তার বাড়ি সার্বজনীন মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে তবে ১০নং বালুয়া মাছুমপুর,৭নং লতিফ পুর,১২নং মিলনপুর ৬নং কাফ্রিখাল,৫নং বাজারহাট সহ উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদেশ থাকা সত্ত্বেও সি সি ক্যামেরা লাগানো হয় নাই।

মিঠাপুকুর পূজা উদযাপন পরিষদের একাংশে সভাপতি শ্রী সুবল মহন্ত বলেন, ইতিমধ্যে আমরা প্রতিটি পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখেছি। পূজার আয়োজন প্রায় শেষে। আজ ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হলো। আমরা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ পূজা উৎযাপনে আশাবাদী। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে শারদীয় দুর্গোৎসব। মিঠাপুকুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজা মন্ডপ সমূহ পরিদর্শন করেছি। প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো নিদেন দেওয়া হয়েছে। নিশ্চিত করা হচ্ছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মিঠাপুকুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি কে জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১৭টি ইউনিয়নে মোট ১৩৪টি পূজামন্ডপে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মোট- ৫৩৬জন পুরুষ-২৬৮জন, মহিলা তাদের নিজেদের দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে স্ব স্ব অবস্থানে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বক্ষণ টহলে থাকবে আমাদের পুলিশ ফোর্স।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মহাষষ্ঠী তিথির মধ্য দিয়ে মিঠাপুকুরে শারদীয় দুর্গোৎসবের সূচনা

আপডেট সময় ১১:৫৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অক্টোবর ২০২২

জগৎ মাতা দেবী দুর্গা হাতি বাহনে চড়ে আজ আসছেন ধরায় বুক জুড়ে ভক্তকূল।আবার কাঁদিয়ে দশমী তিথিতে নৌকায় যাবেন চলে সমস্ত অপশক্তি কে ধ্বংস করে। আজ ১অক্টোবর শনিবার মহাষষ্ঠী পূজার মধ্যে দিয়ে গোধূলি লগনো পার হতে না হতেই বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্যে দিয়ে জগৎ মাতা- দেবী দুর্গার সার্বজনীন দুর্গোৎসব শুরু হয়। আজ মোমবাতি প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন মন্দিরে ষষ্ঠী পূজা আরম্ভ হয়।

দুষ্টের বিনাশ ও সকল অকল্যাণ ঘুচাতে প্রতি বছর শরতের এ তিথিতে দেবী দশভুজা মায়ের মর্ত্যে আগমন হয়। দুর্গতিনাশিনী দেবী দূর্গার মর্ত্যে আগমনের সঙ্গে সঙ্গে, সদ্য ফোটা শিউলির মুহুর্মুহু গন্ধে জানান দেয় দশভুজা মা যে এসেছেন এই ধরার বুকে। এই ধারাবাহিকতায়,রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলায় শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীগণ ১৩৪ টি পূজা মণ্ডপে দুর্গা মা’কে বরণে জন্য বরণডালা সাজিয়ে, মণ্ডপে মণ্ডপে অপেক্ষারত অগনিত ভক্তবৃন্দ। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমার গায়ে রংতুলির শেষ আঁচড় দিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীগণ, তার সাথে রঙিন সাজপোশাকে সজ্জিত করছে পূজা মণ্ডপের প্রতিটি প্রতিমাকে দানে দানে ভরিয়ে দিয়েছে মায়ের দু’হাতে।

পুরোদমে প্রতিটি মন্দিরে পূজোর পেন্ডেল, লাইটিং ও মন্দির সাজানোয় ব্যস্ত বিভিন্ন কর্মীরা। আজ থেকেই শুরু হয়েছে, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তের আনাগোনা সাথে ঢাক-ঢোল আর শঙ্খ বাজনায় পরিপূর্ণ সারা মন্দির জুড়ে। মিঠাপুকুর উপজেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েগেছে। এখন দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেয়ার পালা। মিঠাপুকুর উপজেলায় এবার ১৩৪টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সরজমিন ঘুরে দেখা যায় , উপজেলার, জাইগীরহাট সার্বজনীন মন্দির, শালমারা মাঝিপড়া মন্দির, ঠাকুর বাড়ি সার্বজনীন মন্দির,শ্যামপুর মাঝিপড়া মন্দির, বিরাহীপুর সার্বজনীন মন্দির, মাঠেরহাট বনোমালী ডাক্তার বাড়ি সার্বজনীন মন্দিরসহ বিভিন্ন মন্দিরের সার্বিক পরিস্থিতি শান্ত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে তবে ১০নং বালুয়া মাছুমপুর,৭নং লতিফ পুর,১২নং মিলনপুর ৬নং কাফ্রিখাল,৫নং বাজারহাট সহ উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আদেশ থাকা সত্ত্বেও সি সি ক্যামেরা লাগানো হয় নাই।

মিঠাপুকুর পূজা উদযাপন পরিষদের একাংশে সভাপতি শ্রী সুবল মহন্ত বলেন, ইতিমধ্যে আমরা প্রতিটি পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখেছি। পূজার আয়োজন প্রায় শেষে। আজ ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হলো। আমরা সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ পূজা উৎযাপনে আশাবাদী। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে শারদীয় দুর্গোৎসব। মিঠাপুকুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজা মন্ডপ সমূহ পরিদর্শন করেছি। প্রতিটি মন্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো নিদেন দেওয়া হয়েছে। নিশ্চিত করা হচ্ছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মিঠাপুকুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুস্তাফিজুর রহমান দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি কে জানান, শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ১৭টি ইউনিয়নে মোট ১৩৪টি পূজামন্ডপে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের মোট- ৫৩৬জন পুরুষ-২৬৮জন, মহিলা তাদের নিজেদের দ্বায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে স্ব স্ব অবস্থানে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বক্ষণ টহলে থাকবে আমাদের পুলিশ ফোর্স।