ঢাকা ০২:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে- প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত বগুড়ায় মদ্যপ অবস্থায় চাকুসহ বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি গ্রেফতার বগুড়ায় ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক হস্তান্তর সাবেক এমপিসহ রামগঞ্জ বিএনপির ৫ নেতাকে অব্যাহতি স্কুল ছাত্রীর নগ্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটক আলঝেইমার্সের চিকিৎসায় ‘যুগান্তকারী’ ওষুধ আবিষ্কার প্রবাসীদের জন্য বিশ্বের সেরা ও সবচেয়ে বাজে শহর পাকিস্তানে আত্মঘাতী বোমা হামলায় পুলিশসহ নিহত ৩, আহত ২৪ চীনা দমন-পীড়নের পর বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়ালেন ট্রুডো ভারতে জেএমবির ৩ সদস্যের ৭ বছরের কারাদণ্ড

হোটেল আল মামুন আবাসিক যেনো দেহ ব্যবসা ও মাদক বাণিজ্যের কারখানা

রাজধানীর মিরপুরের আবাসিক হোটেল আল মামুনে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে দেহব্যবসা সহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ। এসব কর্মকান্ড অনেকটাই ওপেন সিক্রেট’ হলেও পুলিশ বলছে এসবের তথ্য নেই তাদের কাছে। অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, মিরপুর এক নম্বরের হোটেল আল মামুন আবাসিকে কমবেশি অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে প্রশাসনের নাকের ডগাতেই।

এই আবাসিক হোটেল গুলোতে একজন নারীর সাথে রাত কাটাতে হলেও গুনতে হয় কয়েক গুণ ভাড়া। বেশি অর্থ উপার্জনের লোভই হোটেল মালিকদের এই জঘন্য কাজে লিপ্ত করেছে। নিয়মানুযায়ী হোটেলে যে কোনো বর্ডারের আগমন হলে তাদের সঠিক ঠিকানা যাচাই করে তাদের রেজিষ্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করা ও ছবি তুলে রাখার কথা থাকলেও অভিযুক্ত হোটেল কতৃপক্ষ মানছে না এই নিয়ম। মালিক- মামুন চৌধুরীর নেতৃত্বে ম্যানেজার- জিএম আজাদের এর সহযোগীতায় দিন দিন বেড়েই চলেছে। হোটেলে নানা অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চলছে রমরমা মাদক বানিজ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিরপরের হযরত শাহ্ আলী (রঃ) মাজার শরীফে অবাধ চলাফেরা করার সুযোগ থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে পালিয়ে, ব্যাক্তিগত কাজ, অন্যান্য কারনসহ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা বিভিন্ন নারী-পুরুষ কোন আশ্রয় না পেলে এই মাজারে আশ্রয় নেয়। আর এখানে অবস্থানরত বিভিন্ন দালালেরা অসহায় নারীদেরকে টার্গেট করে কৌশলে বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যায়। এমনকি দু-এক রাত হোটেলে রেখে তাদেরকে দেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে পাচারও করে দেয় এরা। রীতিমত ‘পীরসাহেবা’ সেজে মাজার শরীফ প্রাঙ্গনে বিভিন্ন আসন পেতে রকমারী আগরবাতি/মোমবাতি জ্বালিয়ে অবস্থানরত বেশ কিছু নারীও রয়েছেন এই দালালের তালিকায়।

মাজার শরীফের মূল প্রাঙ্গনে ঢুকলেই এই পীর সাহেবা মহিলাদের আসনগুলি ঘিরে নানা ধরনের মানুষকে তাদের ঘিরে বসে থাকতে দেখা যায়। মূলত এই লোকগুলোই তাদের পোষা দালাল। আর এই মহিলাদের মূল কাজই হচ্ছে নারী ব্যবসা। তারা নিজেদের এই আস্তানায় বসে কাস্টমার সন্ধানের পাশাপাশি নানা রকম মাদক ব্যবসা করে বলেও জানা গেছে। দূর দুরান্ত থেকে আসা মাজারে আশ্রয় নেয়া অসহায় মেয়েদেরকে ফুসলিয়ে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে নিজেদের বাসায় নিয়ে দেহব্যবসা করতে বাধ্য করে এই পীরসাহেবাগণ।

এমনকি অসহায় আশ্রয়হীন মেয়েগুলোকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে পাচার করে দেয় এরাই। এই কাজেও সক্রিয় ভাবে হোটেল মালিক-পরিচালকগণ তাদেরকে সহযোগিতা করে। স্থনীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, হোটেল গুলোর মালিক-পরিচালকগণ প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না।তাছাড়া পুলিশের সাথেও তাদের সুম্পর্ক রয়েছে। ফলে এসকল অপকর্ম করতে তাদের তেমন কোন বেগ পেতে হয় না।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির দারুস সালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি কে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশের কাছে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করব।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে- প্রস্তুতিমূলক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

হোটেল আল মামুন আবাসিক যেনো দেহ ব্যবসা ও মাদক বাণিজ্যের কারখানা

আপডেট সময় ০৩:৫১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজধানীর মিরপুরের আবাসিক হোটেল আল মামুনে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে দেহব্যবসা সহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপ। এসব কর্মকান্ড অনেকটাই ওপেন সিক্রেট’ হলেও পুলিশ বলছে এসবের তথ্য নেই তাদের কাছে। অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে, মিরপুর এক নম্বরের হোটেল আল মামুন আবাসিকে কমবেশি অসামাজিক কার্যকলাপ চলছে প্রশাসনের নাকের ডগাতেই।

এই আবাসিক হোটেল গুলোতে একজন নারীর সাথে রাত কাটাতে হলেও গুনতে হয় কয়েক গুণ ভাড়া। বেশি অর্থ উপার্জনের লোভই হোটেল মালিকদের এই জঘন্য কাজে লিপ্ত করেছে। নিয়মানুযায়ী হোটেলে যে কোনো বর্ডারের আগমন হলে তাদের সঠিক ঠিকানা যাচাই করে তাদের রেজিষ্টার খাতায় লিপিবদ্ধ করা ও ছবি তুলে রাখার কথা থাকলেও অভিযুক্ত হোটেল কতৃপক্ষ মানছে না এই নিয়ম। মালিক- মামুন চৌধুরীর নেতৃত্বে ম্যানেজার- জিএম আজাদের এর সহযোগীতায় দিন দিন বেড়েই চলেছে। হোটেলে নানা অসামাজিক কার্যকলাপের পাশাপাশি চলছে রমরমা মাদক বানিজ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মিরপরের হযরত শাহ্ আলী (রঃ) মাজার শরীফে অবাধ চলাফেরা করার সুযোগ থাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীতে পালিয়ে, ব্যাক্তিগত কাজ, অন্যান্য কারনসহ কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে আসা বিভিন্ন নারী-পুরুষ কোন আশ্রয় না পেলে এই মাজারে আশ্রয় নেয়। আর এখানে অবস্থানরত বিভিন্ন দালালেরা অসহায় নারীদেরকে টার্গেট করে কৌশলে বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে যায়। এমনকি দু-এক রাত হোটেলে রেখে তাদেরকে দেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে পাচারও করে দেয় এরা। রীতিমত ‘পীরসাহেবা’ সেজে মাজার শরীফ প্রাঙ্গনে বিভিন্ন আসন পেতে রকমারী আগরবাতি/মোমবাতি জ্বালিয়ে অবস্থানরত বেশ কিছু নারীও রয়েছেন এই দালালের তালিকায়।

মাজার শরীফের মূল প্রাঙ্গনে ঢুকলেই এই পীর সাহেবা মহিলাদের আসনগুলি ঘিরে নানা ধরনের মানুষকে তাদের ঘিরে বসে থাকতে দেখা যায়। মূলত এই লোকগুলোই তাদের পোষা দালাল। আর এই মহিলাদের মূল কাজই হচ্ছে নারী ব্যবসা। তারা নিজেদের এই আস্তানায় বসে কাস্টমার সন্ধানের পাশাপাশি নানা রকম মাদক ব্যবসা করে বলেও জানা গেছে। দূর দুরান্ত থেকে আসা মাজারে আশ্রয় নেয়া অসহায় মেয়েদেরকে ফুসলিয়ে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে নিজেদের বাসায় নিয়ে দেহব্যবসা করতে বাধ্য করে এই পীরসাহেবাগণ।

এমনকি অসহায় আশ্রয়হীন মেয়েগুলোকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে পাচার করে দেয় এরাই। এই কাজেও সক্রিয় ভাবে হোটেল মালিক-পরিচালকগণ তাদেরকে সহযোগিতা করে। স্থনীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, হোটেল গুলোর মালিক-পরিচালকগণ প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খোলার সাহস পায়না।তাছাড়া পুলিশের সাথেও তাদের সুম্পর্ক রয়েছে। ফলে এসকল অপকর্ম করতে তাদের তেমন কোন বেগ পেতে হয় না।

এ প্রসঙ্গে ডিএমপির দারুস সালাম জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি কে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশের কাছে কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করে অপরাধীদেরকে আইনের আওতায় এনে যথাযগ্য শাস্তির ব্যবস্থা করব।