ঢাকা ০৯:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১৫ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কটিয়াদীতে নাইট মিনি ফুটবল প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত আজমিরীগঞ্জে জাকজমকভাবে ৫ শতাধিক মন্ডপে বিদ্যাদেবী সরস্বতী পুজা অনুষ্ঠিত রাজধানীতে পৃথক দুর্ঘটনায় দুই শিশুসহ নিহত-৩ লোহাগাড়া থানা পুলিশের অভিযানে ৩ টি বিপন্ন প্রাণী সহ আটক ৪ বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষার ডিজিটাল প্লাটফর্ম তৈরী করেছেন প্রাচীন নিদর্শন ৩ গম্বুজ দেওগাঁ জামে মসজিদ কিশোরগঞ্জে ফরহাদ গ্যাংয়ের ৩ সদস্য আটক কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত চট্টগ্রাম মতি টাওয়ার মতি কমপ্লেক্স ট্রাভেলস এজেন্সি এসোসিয়েশনের মাসিক সভা-২০২৩ হবিগঞ্জের জীবন সংগ্রামী তরুণ নেজামুল হক

আমি হবো সেই ট্রেন যার নেই ষ্টেশন

অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার, অদেখাকে দেখার কৌতূহল মানুষের চিরন্তন। আর এ কৌতূহল পূরণের উৎকৃষ্টতা পন্থা হচ্ছে ভ্রমন । রংপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের সকল ছাত্ররা করেছিল এ আয়োজন।

সত্যিকার অর্থে ভ্রমণের মাধ্যমেই মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধির সুযোগ লাভ করে। এই সৌন্দর্যের মাঝেই মানুষ বিলীন হতে চায়। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড হতে সকল শিক্ষার্থীরা ট্রেনে ভ্রমণে যান এবং অপূর্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করে, যা কখনোও ভোলার নয়।

ট্রেনে ভ্রমনের সময় উপস্থিত যেসব শিক্ষার্থীরা ছিলোঃ মোঃজাহিদুল ইসলাম,মোঃসাব্বির হোসেন সাগর,মোঃআল-আমিন মিয়া,মোঃনিশাত মিয়া,দীপু,মোঃমারুফ হাসান,মোঃবিপ্লব মিয়া,মোঃনাজমুল হাসান,মোঃজাহিদ হাসান,মোঃপারভেজ মিয়া,মোঃরিফাত হাসান সহ আরও অনেকে।

তারা বলেন,আমরা জীবনে অনেকবার বাস ও লঞ্চ ভ্রমন করেছি। কিন্তু কখন ও ট্রেন ভ্রমণের সুযোগ হয়নি। শুনেছি ট্রেন ভ্রমনে খরচ যেমন কম, তেমনি আরামদায়ক । তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার কলেজের সাময়িক ছুটিতে ট্রেনে অনির্দিষ্ট একটি জায়গায় ভ্রমন করতে যাবো।

ভ্রমণে বের হব ভাবতেই আমাদের আনন্দিত লাগছিলো। যা যা প্রয়োজন সবকিছু আমরা স্কুল ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়েছিলাম। যাত্রার দিনটা ছিল বুধবারবার। সকাল ১১টায় কলেজ থেকে থেকে রেলস্টেশনে সবাই মিলে পোছাঁই।এবং সকলে ট্রেনে টিকেট নিয়ে উঠে যাই ট্রেনে। কিছুক্ষণ পরই ট্রেন চলতে শুরু করল।

জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই বিভিন্ন প্রকৃতির নানা দৃশ্য আমাদের চোখে সামনে পড়ছিল। ক্রমশ দ্রত পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্য। মনে হলো গতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে রাস্তার পাশের গাছপালা, ঘরবাড়ি সহ সব কিছু যেন উল্টো দিকে ছুটছে। শহর এলাকা ছেড়ে ট্রেন যখন গ্রাম এলাকা দিয়ে চলতে শুরু করল তখন অপূর্ব দৃশ্যে চোখ পড়েছিল । কোথা ও বিস্তীর্ণ মাঠ সবুজ ধানের ক্ষেত্র, কোথা ও বা বিস্তীর্ণ জলরাশি । ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা রেললাইনে দাঁড়িয়ে। এসব দৃশ্য সত্যিই আমাদেরকে মোহিত করে।ট্রেনটি ঝিক ঝিক করে এগিয়ে পাটগ্রাম ছেড়ে বুড়িমারী গিয়ে পৌঁছায়।

বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট সুন্দর দৃশ্যবলি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। এসব আমাদের মনকে প্রফুল‍্য করে আনন্দের ভরে তোলে। আনন্দে আমরা লাফালাফি করছিলাম । তাছাড়া জানা যায়,বুড়িমারী হল রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি সীমান্ত রেলস্টেশন। এটি একটি স্থল সীমানা পারাপার কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে একটি বিলুপ্ত রেলপথ গমন কেন্দ্র। ভারতীয় পক্ষের অনুরূপ কেন্দ্রটি আছে কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধায়।

বুড়িমারী – লালমনিরহাট – পার্বতীপুর লাইন উত্তর বাংলাদেশের বুড়িমারী এবং পার্বতীপুর জংশনকে সংযুক্তকারী একটি রেলপথ। এটি কুড়িগ্রাম এবং রমনা বাজারের সাথেও সংযুক্ত রয়েছে। এই যাত্রাপথটি বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতাধীন। বুড়ীমারি-লালমনিরহাট-পার্বতীপুর লাইন এর সর্বশেষ স্টেশন এটি।

বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বুড়িমারী সীমান্তে এ স্থলবন্দর অবস্থিত। ভারত, ভূটান এবংনেপালের সঙ্গেস্থল পথে মালামাল আমদানী ও রপ্তানির সুবিধার্থে বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ বন্দরটি চালু করা হয় ১৯৮৮খ্রিষ্টাব্দে।এ বন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপাল হতে কয়লা, কাঠ, টিম্বার, পাথর, সিমেন্ট, চায়না ক্লে, বল ক্লে, কোয়ার্টজ, রাসায়নিক সার, কসমেটিকস সামগ্রী, পশুখাদ্য, বিভিন্ন ধরণের ফলমূল, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, ডাল, গম, বিভিন্ন ধরণের বীজ, তামাক প্রভৃতি মালামাল আমদানী করা হয়।বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হয় ইলিশ মাছ, মেলামাইনের তৈরী বাসনপত্র এবং ঔষধ সহ কতিপয় মালামাল। এই ভ্রমনটি আমাদের জীবনের দীর্ঘতম রেল ভ্রমণ । এ ভ্রমণ না করলে আমরা অনেক কিছু জানা ও দেখা থেকেই বঞ্চিত হতাম। দিনটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে সোনালী সময় । দিনটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের । ভ্রমণটি এতই উপভোগ্য ছিল যে, এর স্মৃতি আমাদের মনে চির সজীব হয়ে থাকবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published.

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কটিয়াদীতে নাইট মিনি ফুটবল প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত

আমি হবো সেই ট্রেন যার নেই ষ্টেশন

আপডেট সময় ০৬:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২

অজানাকে জানার, অচেনাকে চেনার, অদেখাকে দেখার কৌতূহল মানুষের চিরন্তন। আর এ কৌতূহল পূরণের উৎকৃষ্টতা পন্থা হচ্ছে ভ্রমন । রংপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ইলেকট্রিক্যাল ট্রেডের সকল ছাত্ররা করেছিল এ আয়োজন।

সত্যিকার অর্থে ভ্রমণের মাধ্যমেই মানুষ প্রকৃতির সৌন্দর্য উপলব্ধির সুযোগ লাভ করে। এই সৌন্দর্যের মাঝেই মানুষ বিলীন হতে চায়। এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের ইলেকট্রিক্যাল ট্রেড হতে সকল শিক্ষার্থীরা ট্রেনে ভ্রমণে যান এবং অপূর্ব অভিজ্ঞতা অর্জন করে, যা কখনোও ভোলার নয়।

ট্রেনে ভ্রমনের সময় উপস্থিত যেসব শিক্ষার্থীরা ছিলোঃ মোঃজাহিদুল ইসলাম,মোঃসাব্বির হোসেন সাগর,মোঃআল-আমিন মিয়া,মোঃনিশাত মিয়া,দীপু,মোঃমারুফ হাসান,মোঃবিপ্লব মিয়া,মোঃনাজমুল হাসান,মোঃজাহিদ হাসান,মোঃপারভেজ মিয়া,মোঃরিফাত হাসান সহ আরও অনেকে।

তারা বলেন,আমরা জীবনে অনেকবার বাস ও লঞ্চ ভ্রমন করেছি। কিন্তু কখন ও ট্রেন ভ্রমণের সুযোগ হয়নি। শুনেছি ট্রেন ভ্রমনে খরচ যেমন কম, তেমনি আরামদায়ক । তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবার কলেজের সাময়িক ছুটিতে ট্রেনে অনির্দিষ্ট একটি জায়গায় ভ্রমন করতে যাবো।

ভ্রমণে বের হব ভাবতেই আমাদের আনন্দিত লাগছিলো। যা যা প্রয়োজন সবকিছু আমরা স্কুল ব্যাগে ঢুকিয়ে নিয়েছিলাম। যাত্রার দিনটা ছিল বুধবারবার। সকাল ১১টায় কলেজ থেকে থেকে রেলস্টেশনে সবাই মিলে পোছাঁই।এবং সকলে ট্রেনে টিকেট নিয়ে উঠে যাই ট্রেনে। কিছুক্ষণ পরই ট্রেন চলতে শুরু করল।

জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেই বিভিন্ন প্রকৃতির নানা দৃশ্য আমাদের চোখে সামনে পড়ছিল। ক্রমশ দ্রত পাল্টে যেতে থাকে দৃশ্য। মনে হলো গতির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে রাস্তার পাশের গাছপালা, ঘরবাড়ি সহ সব কিছু যেন উল্টো দিকে ছুটছে। শহর এলাকা ছেড়ে ট্রেন যখন গ্রাম এলাকা দিয়ে চলতে শুরু করল তখন অপূর্ব দৃশ্যে চোখ পড়েছিল । কোথা ও বিস্তীর্ণ মাঠ সবুজ ধানের ক্ষেত্র, কোথা ও বা বিস্তীর্ণ জলরাশি । ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা রেললাইনে দাঁড়িয়ে। এসব দৃশ্য সত্যিই আমাদেরকে মোহিত করে।ট্রেনটি ঝিক ঝিক করে এগিয়ে পাটগ্রাম ছেড়ে বুড়িমারী গিয়ে পৌঁছায়।

বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট সুন্দর দৃশ্যবলি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়। এসব আমাদের মনকে প্রফুল‍্য করে আনন্দের ভরে তোলে। আনন্দে আমরা লাফালাফি করছিলাম । তাছাড়া জানা যায়,বুড়িমারী হল রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট জেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের একটি সীমান্ত রেলস্টেশন। এটি একটি স্থল সীমানা পারাপার কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে একটি বিলুপ্ত রেলপথ গমন কেন্দ্র। ভারতীয় পক্ষের অনুরূপ কেন্দ্রটি আছে কোচবিহার জেলার চ্যাংড়াবান্ধায়।

বুড়িমারী – লালমনিরহাট – পার্বতীপুর লাইন উত্তর বাংলাদেশের বুড়িমারী এবং পার্বতীপুর জংশনকে সংযুক্তকারী একটি রেলপথ। এটি কুড়িগ্রাম এবং রমনা বাজারের সাথেও সংযুক্ত রয়েছে। এই যাত্রাপথটি বাংলাদেশ রেলওয়ের আওতাধীন। বুড়ীমারি-লালমনিরহাট-পার্বতীপুর লাইন এর সর্বশেষ স্টেশন এটি।

বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট, পাটগ্রাম, লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বুড়িমারী সীমান্তে এ স্থলবন্দর অবস্থিত। ভারত, ভূটান এবংনেপালের সঙ্গেস্থল পথে মালামাল আমদানী ও রপ্তানির সুবিধার্থে বুড়িমারী জিরো পয়েন্ট এলাকায় এ বন্দরটি চালু করা হয় ১৯৮৮খ্রিষ্টাব্দে।এ বন্দর দিয়ে ভারত, ভুটান ও নেপাল হতে কয়লা, কাঠ, টিম্বার, পাথর, সিমেন্ট, চায়না ক্লে, বল ক্লে, কোয়ার্টজ, রাসায়নিক সার, কসমেটিকস সামগ্রী, পশুখাদ্য, বিভিন্ন ধরণের ফলমূল, পিঁয়াজ, রসুন, আদা, চাল, ডাল, গম, বিভিন্ন ধরণের বীজ, তামাক প্রভৃতি মালামাল আমদানী করা হয়।বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি করা হয় ইলিশ মাছ, মেলামাইনের তৈরী বাসনপত্র এবং ঔষধ সহ কতিপয় মালামাল। এই ভ্রমনটি আমাদের জীবনের দীর্ঘতম রেল ভ্রমণ । এ ভ্রমণ না করলে আমরা অনেক কিছু জানা ও দেখা থেকেই বঞ্চিত হতাম। দিনটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে সোনালী সময় । দিনটি ছিল আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের । ভ্রমণটি এতই উপভোগ্য ছিল যে, এর স্মৃতি আমাদের মনে চির সজীব হয়ে থাকবে।